মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যের ক্রিয়াপদ বিভিন্ন সময় বা কালে সম্পন্ন হওয়া নির্দেশ করে থাকে। ক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার এই সময় বা কালকে ক্রিয়ার কাল বলে।
ক্রিয়ার কাল তিন প্রকার। যথা :
১. বর্তমান কাল
২. অতীত কাল
৩. ভবিষ্যৎ কাল
১. বর্তমান কাল : যে ক্রিয়া এখন সম্পন্ন হয় বা হচ্ছে বোঝায়, তাকে বর্তমান কাল বলে। যেমন :
আমি পড়ি৷
সে যায়।
কাকলি দৌড়ায়৷
আইয়ুব গান গায়।
২. অতীত কাল : যে ক্রিয়া আগেই সম্পন্ন হয়েছে, তার কালকে অতীত কাল বলে। যেমন :
আমি তাকে দেখেছিলাম।
গতকাল ঢাকা গিয়েছিলাম।
মা রান্না করছিলেন।
৩. ভবিষ্যৎ কাল : যে ক্রিয়া আগামীতে বা ভবিষ্যতে সম্পন্ন হবে এমন বোঝায়, তার কালকে ভবিষ্যৎ কাল বলে। যেমন :
বৃষ্টি আসবে।
সীমা কাল গান গাইবে।
পার্থ নাচবে।
প্রত্যেকটি কাল আবার কয়েক ভাগে বিভক্ত। যথা :
১. বর্তমান কাল : ক. সাধারণ বর্তমান খ. ঘটমান বর্তমান গ. পুরাঘটিত বর্তমান
২. অতীত কাল : ক. সাধারণ অতীত খ. ঘটমান অতীত গ. পুরাঘটিত অতীত ঘ. নিত্যবৃত্ত অতীত
৩. ভবিষ্যৎ কাল : ক. সাধারণ ভবিষ্যৎ খ. ঘটমান ভবিষ্যৎ গ. পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ
১. বর্তমান কাল
ক. সাধারণ বর্তমান : যে ক্রিয়ার কাজটি বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে বা হয়, তাকে সাধারণ বর্তমান বা নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল বলে। যেমন :
সকালে সূর্য ওঠে।
দুই আর দুইয়ে চার হয়।
আমি রোজ বিদ্যালয়ে পড়তে যাই।
খ. ঘটমান বর্তমান : যে ক্রিয়ার কাজ বর্তমানে ঘটছে বা চলছে, এখনো শেষ হয়ে যায় নি, তাকে ঘটমান বর্তমান কাল বলে। যেমন :
আমার ছোট ভাই লিখছে।
ছেলেরা এখনো ফুটবল খেলছে।
টেলিভিশনে রবীন্দ্রনাথের লেখা নাটক দেখাচ্ছে।
গ. পুরাঘটিত বর্তমান : যে ক্রিয়া কিছু আগে শেষ হয়েছে কিন্তু তার ফল এখনো রয়েছে, তাকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে। যেমন :
এখন বাবা অফিস থেকে ফিরেছেন।
এবার মা খেতে ডেকেছেন।
অবশেষে আমি ইংরেজি পড়া শেষ করেছি।
২. অতীত কাল
ক. সাধারণ অতীত : যে ক্রিয়া অতীত কালে সাধারণভাবে সংঘটিত হয়েছে, তাকে সাধারণ অতীত কাল বলে। যেমন :
তিনি খুলনা থেকে এলেন।
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক খুব ভালো ব্যাট করলেন।
আমি খেলা দেখে এলাম।
খ. ঘটমান অতীত: যে ক্রিয়া অতীত কালে চলেছিল, তখনো শেষ হয় নি বোঝায়, তাকে ঘটমান অতীতকাল বলে। যেমন :
রিতা ঘুমাচ্ছিল।
সুমন বই পড়ছিল।
আমি ছেলেবেলার কথা ভাবছিলাম।
গ. পুরাঘটিত অতীত : যে ক্রিয়া অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে। যেমন :
আমরা রাজশাহী গিয়েছিলাম।
তুমি কি তার পরীক্ষা নিয়েছিলে?
আমি তাকে ভাত খেতে দেখেছিলাম।
ঘ. নিত্যবৃত্ত অতীত : যে ক্রিয়া অতীতে প্রায়ই ঘটত এমন বোঝায়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে। যেমন :
বাবা প্রতিদিন বাজার করতেন।
স্কুল ছুটির পর বন্ধুদের সঙ্গে রোজ পড়া নিয়ে আলাপ করতাম।
ছুটিতে প্রতি বছর গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যেতাম।
৩. ভবিষ্যৎ কাল
ক. সাধারণ ভবিষ্যৎ : যে ক্রিয়া পরে বা আগামীতে সাধারণভাবে সংঘটিত হবে, তার কালকে সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল বলে। যেমন :
বাবা আজ আসবেন।
‘আমি হব সকালবেলার পাখি। ’
তুমি হয়তো সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘ছাড়পত্র’ পড়ে থাকবে।
খ. ঘটমান ভবিষ্যৎ : যে ক্রিয়ার কাজ ভবিষ্যতে শুরু হয়ে চলতে থাকবে, তার কালকে ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল বলে। যেমন :
সুমন হয়তো তখন দেখতে থাকবে।
মনীষা দৌড়াতে থাকবে।
আমিনা কথা বলতে থাকবে।
গ. পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ : যে ক্রিয়া সম্ভবত ঘটে গিয়েছে এবং সেটি বোঝাতে সাধারণ ভবিষ্যৎ কালবোধক শব্দ ব্যবহার করা হয়, এমন হলে তার কালকে পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল বলে। যেমন :
তুমি হয়তো আমাকে এ কথা বলে থাকবে।
সম্ভবত আগামীকাল পরীক্ষার ফল বের হয়ে থাকবে।
কাঞ্চন বোধহয় কঠিন অঙ্কটা বুঝে থাকবে।
৪. অনুজ্ঞা
আদেশ, অনুরোধ, অনুমতি, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কালের মধ্যম পুরুষে ক্রিয়াপদের যে রূপ হয়, তাকে অনুজ্ঞা বলে। যেমন :
১. বর্তমান কালের অনুজ্ঞা : তোমরা কাজ করো।
রোহান লিখুক।
মিথ্যা কথা বলো না।
অঙ্কটা বুঝিয়ে দেবেন ?
আমাকে তুমি রক্ষা করো,প্রভু।
আদেশ করুন জাহাপনা
বর্তমান কালের অনুজ্ঞার মধ্যম ও নাম পুরুষের রূপ :
| ধরন | সর্বনাম | বিভক্তি | ক্রিয়াপদ |
|---|---|---|---|
| তুচ্ছার্থক | তুই, তোরা | - ০ শূন্য | কর্, যা, পা, খা, দে |
| সাধারণ | তুমি, তোমরা, সে, তারা | - অ, ও, - উক | করো, যাও, খাও, দেও |
| সম্ভ্রমাত্মক | আপনি, আপনারা, তাঁরা, তিনি | –উন, −ন, −এন | যাউন, যান, করুন, |
২. ভবিষ্যৎ কালের অনুজ্ঞা : সব সময় সত্যি বলবে।
বড় হও, বুঝতে পারবে।
অসুস্থ হলে ওষুধ খাবে।
ভবিষ্যৎ কালের অনুজ্ঞার মধ্যম ও নাম পুরুষের রূপ
| ধরন | সর্বনাম | বিভক্তি | ক্রিয়াপদ |
|---|---|---|---|
| তুচ্ছার্থক | তুই, তোরা | - স | করিস, যাস, খাস |
| সাধারণ | তুমি, তোমরা, সে, তারা | -ও, -বে | করো, করবে, খেও, যাবে |
| সম্ভ্রমাত্মক | আপনি, আপনারা, তাঁরা, তিনি | বেন | করবেন, দেখবেন, যাবেন, দেবেন |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
কাল : ক্রিয়া সংঘটনের সময়কে কাল বলে।
১. আমরা বই পড়ি। ‘পড়া’ ক্রিয়াটি এখন অর্থাৎ বর্তমানে সংঘটিত হচ্ছে।
২. কাল তুমি শহরে গিয়েছিলে। ‘যাওয়া’ ক্রিয়াটি পূর্বে অর্থাৎ অতীতে সম্পন্ন হয়েছে।
৩. আগামীকাল স্কুল বন্ধ থাকবে। ‘বন্ধ থাকা' কাজটি পরে বা ভবিষ্যতে সম্পন্ন হবে। সুতরাং, ক্রিয়া, বর্তমান, অতীত বা ভবিষ্যতে সম্পন্ন হওয়ার সময় নির্দেশই ক্রিয়ার কাল। এ হিসেবে ক্রিয়ার কাল প্রধানত তিন প্রকার : ১. বর্তমান কাল, ২. অতীত কাল এবং ৩. ভবিষ্যৎ কাল।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বর্তমান কাল :-
যে ক্রিয়া এখন সম্পন্ন হয় বা হচ্ছে বুঝায়, তাকে বর্তমান কাল বলে। যেমন:
আমি পড়ি।
সে যায়।
কাকলি দৌড়ায়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
নিত্য বা সাধারণ বর্তমান :-
সাধারণভাবে যে ক্রিয়া বর্তমানে ঘটে, বা নিত্যই ঘটে, তাকে বলা হয় নিত্য-বর্তমান।
এই কাল বুঝাতে ধাতুর সঙ্গে ই, অ, এন, ইস্, এ ক্রিয়া-বিভক্তি যুক্ত হয়। যেমন :
সে হাসে। আমি পড়ি। সূর্য ওঠে। মানুষ মরে। বাতাস বয়।
ঘটমান বর্তমান :-
বর্তমানে যে ক্রিয়ার কাজ আরম্ভ হয়েও শেষ হয়নি, অর্থাৎ যে-ক্রিয়ার কাজ এখনও চলছে, তাকে বলা হয় ঘটমান বর্তমান।
এই কাল বুঝাতে ধাতুর শেষে ইতেছে’ (ছে), ইতেছ (ছ), ইতেছি (ছি) প্রভৃতি ক্রিয়া-বিভক্তি বসে। সাধুভাষায় ইতেছে, ইতেছ, ইতেছি এবং চলিতভাষায় ছে, ছ, ছি প্রভৃতি ক্রিয়া-বিভক্তি বসে। যদিও বর্তমানে চলিতভাষা প্রাধান্য পেয়েছে, তবুও সাধুভাষায় ক্রিয়া-বিভক্তির রূপগুলি জানা প্রয়োজন।
বন্ধনীর মধ্যে চলিতভাষার ক্রিয়ারুপ দেখানো হয়েছে। যেমন :
সে হাসিতেছে (হাসছে)।
তুমি কাঁদিতেছ, (কাঁদছ)।
আমি পড়িতেছি (পড়ছি)।
সূর্য উঠিতেছে (উঠছে) ইত্যাদি।
পুরাঘটিত বর্তমান :-
কিছুক্ষণ পূর্বে যে ক্রিয়া সংঘটিত হয়েছে, অথচ যার ফল এখনও বর্তমান, তার কালকে বলা হয় পুরাঘটিত বর্তমান।
এই কাল বুঝাতে ধাতুর শেষে ইয়াছে (এছে), ইয়াছ (আছ), ইয়াছি (এছি) প্রভৃতি ক্রিয়া-বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন :
সে হাসিয়াছে (হেসেছে)।
তুমি কাঁদিয়াছ (কেঁদেছ)।
আমি পড়িয়াছি (পড়েছি) ইত্যাদি।
ক্রিয়া আগেই সম্পন্ন হয়েছে, তার কালকে অতীত কাল বলে। যেমন:
আমি তাকে দেখেছিলাম।
গতকাল ঢাকা গিয়েছিলাম।
মা রান্না করছিলেন।
অতীত কালের প্রকারভেদ :-
অতীত কালকে চারভাগে ভাগ করা যায়।
যেমন -
১.নিত্য-অতীত;
২. ঘটমান অতীত;
৩. পুরাঘটিত অতীত এবং
৪. নিত্যবৃত্ত-অতীত।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
নিত্য বা সাধারণ অতীত :-
সাধারণভাবে যে-ক্রিয়ার কাজ পূর্বে অর্থাৎ, অতীতে সম্পূর্ণ হয়েছে তার কালকে বলা হয় নিত্য-অতীত। এতে নির্দিষ্ট কোনো সময়ের উল্লেখ থাকে না। তবে বাক্য থেকে বুঝা যায় যে, এই শ্রেণির কাজ খুব বেশি পূর্বে নিষ্পন্ন হয়নি।
এই কাল বুঝাতে ধাতুর শেষে-ইলাম (লাম), ইলে (লে), ল প্রভৃতি ক্রিয়া-বিভক্তি যুক্ত হয়। যেমন :
হেনা গান গাহিল (গাইল)।
আমি একটি গল্প লিখিলাম (লিখলাম)।
বাবা বাজার হইতে (থেকে) আসিলেন (এলেন)।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
নিত্যবৃত্ত অতীত :
পূর্বে যে ক্রিয়ার কাজ কিছুকাল ধরে চলত বা নিয়মিত ভাবে যে ক্রিয়া অনুষ্ঠিত হত, তার কালকে বলা হয় নিত্যবৃত্ত অতীত।
এই কাল বুঝাতে ধাতুর শেষে-ইত (-ত), ইতাম (-তাম), ইতে (-তে) ইত্যাদি ক্রিয়া-বিভক্তি যুক্ত হয়। যেমনঃ
প্রত্যহ সকালে হেনা সঙ্গীতচর্চা করিত (রোজ সকালে হেনা গানের রেওয়াজ করত)।
আমি যখন ঘুম হইতে উঠিতাম (আমি যখন ঘুম থেকে উঠতাম)।
বাবা তখন প্রাতর্জ সারিয়া বাড়িতে ফিরিতেন।
ঘটমান অতীত কাকে বলে :-
পূর্বে যে-ক্রিয়ার কাজ হচ্ছিল এবং তখনও যা সম্পূর্ণ হয়নি, তার কালকে বলা হয় ঘটমান অতীত।
এই কাল বুঝাতে ধাতুর শেষে- ইতেছিলাম (ছিলাম), -ইতেছিলে (ছিলে). ইতেছিল (ছিল) ইত্যাদি ক্রিয়া-বিভক্তি যুক্ত হয়। যেমন :
হেনা গান গাহিতেছিল (গাইছিল, গাচ্ছিল)।
আমি একটি গল্প লিখিতেছিলাম (লিখছিলাম)।
বাবা বাজার হইতে (থেকে) আসিতেছিলেন (আসছিলেন)।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
পুরাঘটিত-অতীত :
অনেক পূর্বেই যে ক্রিয়ার কাজ ঘটেছিল, তাকে বলা হয় পুরাঘটিত-অতীত।
এই ঝাল বুঝাতে ধাতুর শেষে ইয়াছিল (এছিল), ইয়াছিলাম (এছিলাম), ইয়াছিলে (-এছিলে) ইত্যাদি ক্রিয়া-বিভক্তি যুক্ত হয়। যেমন :
হেনা গান গাহিয়াছিল (গেয়েছিল)।
আমি একটি গল্প লিখিয়াছিলাম (লিখেছিলাম)।
তখন বাবা বাজার থেকে আসিয়াছিলেন (এসেছিলেন)।
ভবিষ্যৎ কাল কাকে বলে :-
যে ক্রিয়া আগামীতে বা ভবিষ্যতে সম্পন্ন হবে এমন বোঝায়, তার কালকে ভবিষ্যৎ কাল বলে। যেমন:
বৃষ্টি আসবে।
সীমা কাল গান গাইবে।
পার্থ নাচবে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
সাধারণ ভবিষ্যৎ :-
পরে অর্থাৎ ভবিষ্যতে যে ক্রিয়ার কাজ অনুষ্ঠিত হবে, তার কালকে বলা হয় সাধারণ ভবিষ্যৎ।
এই কাল বুঝাতে ধাতুর শেষে হবে -ইব (-ব), (-বে) ক্রিয়া-বিভক্তি যুক্ত হয়। যেমনঃ
কাল পরীক্ষা হইবে (হবে)।
আমি তোমার গান শুনিব (শুনব)।
বাবা বেড়াইতে যাইবেন (বেড়াতে যাবেন)।
ঘটমান ভবিষ্যৎ :-
পরে যে ক্রিয়া ঘটতে থাকবে, তার কালকে বলা হয় ঘটমান-ভবিষ্যৎ।
এই কাল বুঝাতে মূল ধাতুর শেষে-ইতে (-তে) ক্রিয়া-বিভক্তি এবং তার পরে আছ (থাক্) ধাতুর সাথে -ইব (-ব), ইবে (-বে), ইবি (-বি) ইত্যাদি ক্রিয়া-বিভক্তি যুক্ত হয়। যেমনঃ
সে তখন হাঁটিতে থাকিবে (হাঁটতে থাকবে)।
আমি যখন লিখিতে থাকিব (লিখতে থাকব)।
পাশের বাড়িতে তখন কাসরঘণ্টা বাজিতে থাকিবে (বাজতে থাকবে)।
পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ :-
পূর্বে যে ক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়ে থাকবে, তার কাল হয় পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ। যেমন :
আপনি সেদিন আমাকে ভুল বুঝিয়া থাকিবেন (বুঝে থাকবেন)। সেই হয়তো লিখিয়া থাকিবে (লিখে থাকবে) ইত্যাদি।
ক্রিয়ার ভাবের সংজ্ঞা : যা দ্বারা ক্রিয়াপদের বর্ণিত কার্য ঘটার ধরন, প্রকার বা রীতিবোধ প্রকাশ পায়, তাকে ক্রিয়ার প্রকার বা ভাব বা ধরন বলে।
অথবা, যা দ্বারা কোনো কাজ সংঘটিত হওয়ার ভাব অর্থাৎ রীতি প্রকাশ পায় তাকে ক্রিয়ার ভাব বা প্রকার বলে।
ক্রিয়ার ভাবের প্রকারভেদ : ক্রিয়ার প্রকার বা ভাব চার ভাগে বিভক্ত। যথা–
(১) নির্দেশক ভাব
(২) অনুজ্ঞা ভাব
(৩) শর্তবাচক ভাব
(৪) আকাঙ্ক্ষাবাচক ভাব
নির্দেশক বা অবধারক ভাব : সাধারণভাবে কোনো কিছু নির্দেশ করলে তখন তাকে ক্রিয়াপদের নির্দেশক ভাব বলে। যেমন– “অর্থ, হায়রে পাতকী অর্থ, তুই জগতের সকল অনর্থের মূল।”
যারা দিনে পাঁচবার প্রার্থনা করে তারা মুসলমান।
অনুজ্ঞা বা নিয়োজক ভাব : যে বাক্যে আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, উপদেশ, আশীর্বাদ, প্রার্থনা, কামনা ইত্যাদি ভাব প্রকাশ করে তাকে ক্রিয়া পদের অনুজ্ঞা বা নিয়োজক ভাব বলে। যেমন– এখন পড়। সদা সত্য কথা বলবে। গোলমাল করো না। সুখে থাক।
শর্তবাচক বা সাপেক্ষ ভাব : কোনো বাক্যে একটি ক্রিয়া শর্তের ওপর নির্ভর করে সম্পাদিত হলে তাকে ক্রিয়াপদের শর্তবাচক ভাব বলে। যেমন– প্রভু, এমন শক্তি দাও যাতে জাতির কল্যাণ সাধন করতে পারি। পরিশ্রম করলে তোমরা অবশ্যই সাফল্য লাভ করবে।
আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাবঃ- যে ক্রিয়াপদে বক্তা সরাসরি কোনো ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে, তাকে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাবের ক্রিয়া বলে।
Read more